Disappearance Day of Srila Gadhadhar DasThakur

শ্রীগদাধর দাস ঠাকুরের তিরোভাব
 
শ্রীগদাধর দাস ঠাকুর পূর্বে নবদ্বীপে অবস্থান করতেন। মহাপ্রভুর অন্তর্ধানের পর কিছুদিন কাটোয়ায় বসবাস করেন। অতঃপর গঙ্গাতীরে এড়িয়াদহ নামক গ্রামে এসে বাস করেন। শ্রীগদাধর দাস ঠাকুরের শিষ্য কাটোয়ার শ্রীযদুনন্দন চক্রবর্তী। শ্রীগদাধর দাস ঠাকুর গৌর-নিত্যানন্দের অন্তরঙ্গ পার্ষদ ছিলেন। শ্রীগৌরগণোদ্দেশ-দীপিকায় শ্রীগদাধর দাস ঠাকুরকে শ্রীরাধার অঙ্গ-শোভা-স্বরূপ বলা হয়েছে। শ্রীগদাধর দাস ঠাকুর শ্রীনিত্যানন্দগণ হলেও সখ্য-ভাব-ময় গোপাল নহেন। তিনি মধুর-রসে গোপীভাবে নিজেকে সর্ব্বদা ভাবনা করতেন। মস্তকে গঙ্গাজলের কলসী ধারণপুরি”কে গোরস কিনবে গো?” বলে হাঁক দিতেন। কখন বা গোপীভাবে “কে দই কিনবে গো?” বলে অট্ট হাস্য করতেন।
 
শ্রীমহাপ্রভু নিত্যানন্দ প্রভুকে যখন গৌড়দেশে নাম-প্রেম প্রচার করতে আদেশ করেন, তখন সঙ্গে শ্রীরামদাস ও শ্রীগদাধর দাসকেও প্রেরণ করেন।
 
শ্রীরামদাস আর গদাধর দাস।
চৈতন্য-গোসাঞির ভক্ত রহে তাঁর পাশ।।
নিত্যানন্দে আজ্ঞা দিল যবে গৌড়ে যাইতে।
মহাপ্রভু এই দুই দিল তাঁর সাথে।।
 
(চৈঃ চঃ আদিঃ ১১।১৩-১৪)
 
শ্রীবৃন্দাবন দাস ঠাকুর মহাশয় শ্রীগদাধর দাস ঠাকুরের মহিমা এভাবে বর্ণন করেছেন-
 
নিত্যানন্দ অধিষ্ঠান যাঁহার শরীরে।।
হেনমতে গদাধর দাসের মহিমা।
চৈতন্য পার্ষদ মধ্যে যাঁহার গণনা।।
যে কাজীর বাতাস না লয় সাধুজনে।
পাইলেই মাত্র জাতি লয় সেইক্ষণে।।
হেন কাজী দুব্বার দেখিলে জাতি লয়।
হেন জনে কৃপাদৃষ্টি কৈলা মহাশয়।।
 
(চৈঃ ভাঃ অন্ত্যঃ পঞ্চম অধ্যায়)
 
শ্রীগদাধর দাস ঠাকুর একদিন প্রেমোন্মত্ত-চিত্তে হরিসংকীর্তন করতে করতে কাজীর গৃহে এলেন এবং কাজীকে ডাকতে লাগলেন, কাজী ক্রোধভরে ঘরের ভিতর থেকে বাহিরে এলেন; কিন্তু শ্রীগদাধর দাস ঠাকুরের দিব্য মূর্তি ও দিবা-ভাব দেখে স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। কাজীর বদনমণ্ডল সখ্য ভাব ধারণ করল, ক্রোধ ও প্রশমিত হল। কাজী বললেন- ঠাকুর। তুমি এখন এলে কেন?
 
শ্রীগদাধর দাস বললেন-তোমার সঙ্গে কিছু কথা আছে।
কাজী -আমার সঙ্গে কি কথা আছে বল।
শ্রীগদাধর -শ্রীগৌর-নিত্যানন্দ পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়ে আপামর জন সাধারণকে হরিনাম দিয়েছেন সে মধুর হরিনাম তুমি নিচ্ছ না কেন?
কাজী-কাল হরিনাম নেব।
গদাধর – কাল কেন আজই নাও। আমি এসেছি তোমাকে হরিনাম দিয়ে উদ্ধার করবার জন্য। তুমি পরম মঙ্গলময় শ্রীহরিনাম নাও। অদ্যই তোমার সমস্ত পাপ-তাপ থেকে তোমায় আমি উদ্ধার করব।
 
কাজী শ্রীগদাধর দাস ঠাকুরের বাণী শুনে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হলেন; অতঃপর হাস্য করতে করতে বললেন-কাল হরি বলব, শ্রীগদাধর দাস ঠাকুর কাজীর মুখে ‘হরি’ শব্দ শুনে প্রেমসুখে মত্ত হয়ে বললেন আর কাল কেন? এই ত তুমি ‘হরি’ শব্দ বললে। তোমার সমস্ত পাপ তাপ দূর হল, তুমি পরম শুদ্ধ হলে। এ বলে শ্রীগদাধর দাস ঠাকুর প্রেমে নৃত্য করতে লাগলেন। কাজী পরম শুদ্ধ হলেন এবং গদাধর দাস ঠাকুরের শ্রীচরণে শরণ নিলেন।
 
এইভাবে শ্রীগদাধর দাস ঠাকুর কত পাপী যবনাদিকে নাম দিয়ে উদ্ধার করেছিলেন। শ্রীগদাধর দাস ঠাকুর কার্ত্তিক শুক্লাষ্টমীতে অপ্রকট হন। জয় শ্রীগদাধর দাস ঠাকুর কী জয়।
 
 

Date

Oct 01 2022
Expired!

Time

All Day